• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

পীরগাছায় বসতবাড়ি সংলগ্ন ব্রয়লার খামারের দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অসংখ্য পরিবার

[✔এম এ হোসেন পাটোয়ারী,রংপুর] / ৩৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

​উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবেশ দপ্তরসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ; সরজমিনে তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের প্রতিপাল গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একদম মাঝখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা একটি ব্রয়লার মুরগির খামার ঘিরে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মাসের পর মাস খামারের বর্জ্য পরিষ্কার না করা এবং আবাসিক এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে খামার পরিচালনার ফলে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা।
​এলাকাটিকে পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রংপুর জেলা কার্যালয়সহ একাধিক সরকারি দপ্তরে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী যৌথ স্বাক্ষরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​অভিযোগ সূত্রে ও সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গ্রামের বসতবাড়ির একেবারেই পেটের ভেতর কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র বা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই ব্রয়লার খামারটি চালানো হচ্ছে। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো— খামারের বিষাক্ত বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার না করে ৩ থেকে ৪ মাস পর পর একই স্থানে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। দীর্ঘদিন জমে থাকা এই বর্জ্য পচে বাতাসে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মারাত্মক মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধির পাশাপাশি বিষাক্ত বাতাসে এলাকার শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, গ্যাস্ট্রিক ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
​স্থানীয় ভুক্তভোগী নারী আফসানা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিন-চার মাস ধরে খামারের ময়লা-বর্জ্য জমে থাকে, অথচ পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধের চোটে আমরা ঘরে শান্তিতে বসে দু’বেলা খেতে পারি না। ছোট ছোট বাচ্চাদের ঘন ঘন অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। এমনকি দুর্গন্ধ এত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, আমাদের এলাকার মানুষের মসজিদে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
​আবাসিক এলাকায় এমন অনিয়ন্ত্রিত খামার স্থাপনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন— বসতবাড়ির ঠিক মাঝখানে এভাবে বছরের পর বছর বর্জ্য জমিয়ে রেখে মানুষ কীভাবে বসবাস করবে? খামার পরিচালনা করতে হলে তা সরকারের প্রাণিসম্পদ ও পরিবেশ আইন মেনে লোকালয় থেকে দূরে কোনো ফাঁকা বা নির্দিষ্ট জায়গায় করতে হবে। ঘনবসতি এলাকার ভেতরে এ ধরনের খামার গড়ে তোলা সম্পূর্ণ অন্যায়।
​অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল কাদের জানান, খামার মালিককে দুর্গন্ধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে বলা সত্ত্বেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী একজোটে সই করে লোকালয় থেকে এই খামার অপসারণ ও আইনি প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।
​সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “উক্ত বিষয়ে এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে দ্রুত সরজমিনে তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে খামার পরিচালিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
​এলাকাবাসীর দাবি, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী এই খামারটি দ্রুত লোকালয় থেকে উচ্ছেদ করে গ্রামের পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd