ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের পরাজয়কে অনেকেই সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে চান। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এই হার ছাত্রদলের নয়; এই হার মূলত বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতা ও রাজনৈতিক উদাসীনতার ফল।
একটি নির্বাচনে অংশ নিতে যে ন্যূনতম সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রয়োজন—তা ছাত্রদল পায়নি। একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করার জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ একটি টাকাও দেননি, রাখেননি কোনো খোঁজখবর, দেননি সাংগঠনিক বা কৌশলগত সহায়তা। সম্পূর্ণ নিজের শক্তি ও ত্যাগের ওপর ভর করেই ছাত্রদল মাঠে ছিল।
যে ভোটগুলো ছাত্রদল পেয়েছে, তা কেবল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফল। এই জায়গা থেকে আমি ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তারা প্রমাণ করেছে—সহযোগিতা না থাকলেও আদর্শ থাকলে লড়াই করা যায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, যেভাবে ছাত্রদলকে অসহযোগিতা করা হয়েছে, তার ফলেই দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখেছে। ছাত্রদলের ভোট ছাত্রদল ঠিকই পেয়েছে; কিন্তু হেরে গেছে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বহীন রাজনীতি।
আমি জানি, এই কথাগুলো অনেকের ভালো লাগবে না। বিরূপ মন্তব্যও আসবে। তবু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—যদি আল্লাহর রহমতে বিএনপি আগামীতে সরকার গঠনও করে, তবুও সংগঠিত ও শক্তিশালী ছাত্রশক্তি ছাড়া সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এই বাস্তবতা সরকার গঠনের এক বছর পরই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
অতিরিক্ত মাত্রায় টাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি বিএনপির জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে ছাত্রদল ও যুবদলকে সুসংগঠিত করতে হবে, ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীদের পেছনে সর্বোচ্চ গাইডলাইন ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই দল, দেশ ও জাতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।