• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

পিরোজপুর গণপূর্তে ‘স্বামী-স্ত্রী সিন্ডিকেট’: পিপিআর বিধিমালার প্রকাশ্য লঙ্গন

Reporter Name / ৫০ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,

‎সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) লঙ্ঘন করে পিরোজপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ‘স্বামী-স্ত্রী সিন্ডিকেট’। অত্র দপ্তরের হিসাব সহকারী আঁখি আক্তারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তার স্বামী মোঃ জাহিদুল ইসলাম সিপাই একই দপ্তরে বীরদর্পে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘আরাফ এন্টারপ্রাইজ’ নামের লাইসেন্স ব্যবহার করে বিগত দিনে সরকারি এই দপ্তর থেকে অনেক টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
‎​পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR-২০০৮) অনুযায়ী, স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এড়াতে কোনো সরকারি কর্মচারী যে দপ্তরে কর্মরত, সেই দপ্তরে তার পরিবারের কোনো সদস্য বা নিকটাত্মীয় ঠিকাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে বা কাজ করতে পারেন না। কিন্তু পিরোজপুর গণপূর্তে এই আইনের তোয়াক্কা না করে আঁখি আক্তার তার হিসাব শাখার পদের প্রভাব খাটিয়ে স্বামীকে অনৈতিক সুবিধা দিচ্ছেন।
‎​অনুসন্ধানে জানা যায়, হিসাব শাখায় কর্মরত হওয়ার সুবাদে আঁখি আক্তার দরপত্রের গোপনীয় তথ্য এবং প্রাক্কলন (Estimate) সংক্রান্ত নথি আগেভাগেই তার স্বামীর কাছে পৌঁছে দেন। ফলে লটারি বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। এছাড়া বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও স্বামীর প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সুবিধা পায়। সাধারণ ঠিকাদারদের বিল মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও, হিসাব সহকারী হওয়ায় আঁখির স্বামীর বিল দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও ছাড় করা হয়।
‎​স্থানীয় ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, আঁখি আক্তার ও তার স্বামী কিছু অসাধু ঠিকাদারকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই চক্রটি বিগত দিনে নামে-বেনামে টেন্ডার করে কাজ না করেই টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন বলেও নজরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, “অফিসের ভেতর থেকে সিন্ডিকেট চালানো হলে সুস্থ প্রতিযোগিতা সম্ভব নয়। আমরা বছরের পর বছর নিয়ম মেনে ব্যবসা করছি, অথচ অফিসের লোকই এখন আমাদের অধিকার হরণ করছে।”
‎​এ বিষয়ে পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পিপিআর বিধি অনুযায়ী কেউ নিজ দপ্তরে আত্মীয়কে কাজ পাইয়ে দিতে পারেন না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।” বিধিমালা লঙ্ঘন করে চলা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd