• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

রাজনীতিবিদরাও হতে পারেন কবি-সাহিত্যিক, প্রমাণ দিলেন ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের আলোচনায় থাকা আসলাম

Reporter Name / ১০০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

“দীর্ঘ সংগ্রাম, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি…”—একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই শব্দগুলো যেমন সত্য, তেমনি সত্য কিছু মানুষের ব্যক্তিজীবনেও। রাজনীতি যখন অনেকের কাছে শুধুই ক্ষমতার সিঁড়ি কিংবা অবৈধ উপার্জনের হাতিয়ার, তখন কেউ কেউ বুক চিতিয়ে লড়াই করেন স্রেফ আদর্শের টানে। রাজনীতি ও ব্যক্তিজীবনের এই কঠিন সমীকরণে নিজেকে মেলে ধরেছেন এক ব্যতিক্রমী মানুষ—মো. আসাদুজ্জামান আসলাম। পেশায় যিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, যার হাত ছুঁয়ে কখনো আসেনি কোনো অবৈধ উপার্জন; আর অন্তরে যিনি একজন সংবেদনশীল কবি, যার কলমে ফুটে উঠেছে চারটি কবিতার গ্রন্থ। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এই নিভৃত শিক্ষক ও কবিকেই বেছে নিতে হয়েছে রাজপথের উত্তপ্ত স্লোগান।
​আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—সবখানেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। দলের হাইকমান্ডও এবার মাঠপর্যায়ের সক্রিয়, ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মূল্যায়নের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় নাম হিসেবে সবার আগে উঠে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলামের নাম।

​রাজনীতিতে যখন ‘তদবির ও লবিং সংস্কৃতি’র জয়জয়কার, তখন কোনো ধরনের প্রকাশ্য তদবির ছাড়াই কেবল রাজপথের সক্রিয়তা, সততা আর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে আসলামের নাম নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ঘুরছে। বিএনপির ১৭ বছরের বিসর্জনের রাজনীতির খতিয়ান তৈরি করলে যে কজন নেতার নাম অগ্রভাগে থাকবে, আসলাম তাদের অন্যতম। গত ৯ মে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ৯০০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যুবদলের রাজনীতিতে যে তরুণ, শিক্ষিত ও গতিশীল নেতৃত্ব আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আসলামের প্রোফাইল যেন তারই এক মূর্ত প্রতীক।
​আসলামের রাজনৈতিক উত্থান কোনো সুগম পথে হয়নি। ২০০৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে তাঁর রাজনীতিতে পথচলা শুরু। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে পড়াশোনা, টিউশনি বা ব্যক্তিগত জীবিকা এবং সংগঠনের গুরুদায়িত্ব—সবকিছুকে একহাতে সামলেছেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এক অপরাজেয় ও সুসংগঠিত ইউনিটে পরিণত হয়েছিল। দলের আদর্শের সাথে তিনি কখনো বেঈমানী করেননি, বিচ্যুত হননি সাধারণ কর্মীর ভালোবাসা থেকে।
​বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী দুঃসহ পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে আসলাম ও তার ইউনিটের সাহসী ভূমিকা ছিল দেখার মতো। জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত মুহূর্তে, গত ৪ আগস্ট সিএমএম আদালত ঘেরাও কর্মসূচিতে বুলেটের তোয়াক্কা না করে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি, যা সাধারণ ছাত্র-জনতা ও নেতাকর্মীদের মাঝে সাহসের আলো জ্বালিয়েছিল। শুধু আন্দোলনের মাঠেই নয়, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পুরান ঢাকার সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন এই শিক্ষক-নেতা। তাঁর নির্দেশনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাতভর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
​তবে ত্যাগের এই মহিমা অর্জনের পথ আসলামের জন্য ছিল অত্যন্ত রক্তাক্ত ও কণ্টকাকীর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার ছাত্রলীগের নির্মম হামলা, পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ ও গুলির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে তাঁর কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু রক্তচক্ষু, হামলা-মামলা আর জেল-জুলুমের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েও তিনি বারবার ফিরে এসেছেন তাঁর চিরচেনা রাজপথে।
​ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল জোনে তৃণমূলের বড় একটি অংশ এখন আসলামের মতো একজন পরীক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের নেতাকেই হালের মাঝি হিসেবে দেখতে চায়।
​নিজের প্রার্থীতা ও দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মো. আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন:​”দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকেছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের দায়িত্ব দেন, তাহলে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করবো। যুবদলকে আরও শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও একটি গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
​শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের রাজকীয় হাল কার হাতে উঠছে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দলের হাইকমান্ড যদি সত্যিই ত্যাগ, মেধা, সততা এবং রাজপথের রক্তাক্ত লড়াইকে পুরস্কৃত করতে চায়, তবে কবিতার খাতা হাতে নেওয়া এই লড়াকু শিক্ষক যে নেতৃত্বের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন—তা বলাই বাহুল্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd