রমজানের পণ্যবোঝাই অর্ধশত জাহাজ বন্দরসীমায় আটকা
এসব জাহাজের অর্ধেকেই আছে ছোলা, খেজুর, চিনি, তেলসহ ১৩ ধরনের ভোগ্যপণ্য
রমজানের পণ্যবোঝাই অর্ধশত জাহাজ বন্দরসীমায় আটকা
টানা কর্মবিরতি শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী ছুটি। এতে চট্টগ্রামের বন্দরসীমায় তৈরি হয় পণ্যবাহী জাহাজের জট। ১১০টি জাহাজ এখন সাগরে ভাসছে। এসব জাহাজে থাকা পণ্য রমজানের আগে বাজারজাত করতে পারছেন না আমদানিকারকরা।
চট্টগ্রাম বন্দরে ভোগ্যপণ্য নিয়ে ভাসতে থাকা ৫৫ জাহাজ ধরতে পারছে না রমজানের বাজার। পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জ ঘিরে এসব পণ্য বন্দরে আনা হলেও সেগুলো যথাসময়ে খালাস করতে পারেননি আমদানিকারকরা। বন্দরসীমায় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এখনও ভাসছে ১১০টি জাহাজ। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্য বোঝাই জাহাজ আছে অর্ধেক।
এসব জাহাজে আছে চাল, ডাল, ছোলা, খেজুর, চিনি, ফলমূল, তেলসহ নানা ভোগ্যপণ্য। আগামী দুদিনে আরও ১০টি জাহাজ নোঙর করবে বন্দরে।
শবেবরাতের পর থেকে পরের ১৫ দিন রমজানের পণ্য বেচাকেনা হয় পাইকারি মোকামে। তবে টানা কর্মবিরতি ও নির্বাচনের ছুটির ফাঁদে পড়ে এবার সে সময়ে পণ্য বাজারজাত করতে পারেননি আমদানিকারকরা।
রমজানের পণ্য জাহাজ থেকে নামাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার দিলেও নির্বাচনের ছুটিতে কাঙ্ক্ষিত পণ্য খালাস করা যায়নি। স্বাভাবিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার খালাস হয়। নির্বাচনের সময় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ ছিল। আবার নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বন্দরে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে খাদ্যদ্রব্যসহ রমজানের সামগ্রী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খালাসের সুযোগ ছিল। এমন শর্ত আরোপের কারণে নির্বাচন ও এর আগে-পরের তিন দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ কম ছিল পণ্য সরবরাহের হার। রমজানের আগে আমদানি করা পণ্য বাজারে তুলতে এখন তাই দৌড়ঝাঁপ করছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, রমজানের পণ্য দ্রুত খালাস করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমরা। তবে টানা কর্মবিরতি ও নির্বাচনী ছুটির কিছুটা প্রভাব পড়েছে খালাস কার্যক্রমে। ভোটের আগে-পরে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ ছিল। আবার পরিবহন শ্রমিকের অনেকে ভোট দিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বন্দর খোলা থাকলেও এ সময়ে তুলনামূলক কম ছিল পণ্য খালাসের হার।
ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক টিকে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) শফিউল আতাহার তসলিম বলেন, নির্বাচন ও রমজান কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় এবার আগেভাগে পণ্য এনেছিলেন অনেক আমদানিকারক। তবে অনেকে প্রত্যাশিত সময়ে সেই পণ্য বাজারে আনতে পারেননি। এ জন্য বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন কিছু ব্যবসায়ী।