দেশে দেড় দশক পরে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হচ্ছে। এবারের নির্বাচন সর্বাধিক সংখ্যক দল অংশ নিয়েছে। ৫ আগস্ট ভারত তোষণকারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ায় এমন ভোট উৎসবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং সব রাজনৈতিক দল ভারতীয় আধিপত্যবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা বলে আসছে। তবে ভোটের মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।”
একই সঙ্গে ভোটের পরে নয়াদিল্লি সফরের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এতদিন ভারতবিরোধীতায় সোচ্চার থাকা দলটির আমির।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি।
নির্বাচনের সময়ে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ‘অগ্রাধিকার’ এবং সফরের আগ্রহ প্রকাশে তার ‘ভারততোষণ’ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
“বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান এবং এখানে সংখ্যালঘু বলে কোনো কিছু নেই” উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেছেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং এটাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৬ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যতম বড় দল জামায়াত জোটবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নির্বাচন ঘিরে পুরো বাংলাদেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
এবারের ভোটে জামায়াতের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অনেকেই। তবে এ দলটির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংসতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে এনডিটিভিকে জামায়াতের আমির বলেন, “বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান বলে আমরা মনে করি, প্রত্যেকেই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আমরা কখনো শুধু ধর্মবিশ্বাসজনিত কারণে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু ধারণাকে প্রশ্রয় দিই না।”
ভারতে সফরের ব্যাপারে তিনি বলেন, “ভারতে সফরের ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিধা বা বাধা নেই। নির্বাচন শেষ হোক, তারপর আমি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।”