কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদরাসা পড়ুয়া এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।
গত রোববার (১৫ মার্চ) শিশুটির পরিবার পাশবিক নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ পরদিন সোমবার মাদরাসার সুপারকে গ্রেপ্তার করে।
শিশুটির পরিবার ও ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা যায়,ভেড়ামারার পার্শ্ববর্তী থানা দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ১০ বছরের ভুক্তভোগী শিশুটি বিগত ৮ মাস আগে উপজেলার চৈতন্যমোড়ে অবস্থিত জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদরাসায় ভর্তি হয়। সে অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে সেখানে আবাসিক থাকতো। দোতালায় মাদরাসা আর নিচ তলায় হুজুর পরিবারসহ থাকতো। এখানে পুরুষ শিক্ষক বলতে মাওলানা সাইদুর রহমান একাই থাকতেন। গত রোববার মাদরাসা ছুটি হওয়ায় শিশুটির মা তাকে বাড়ি নিতে এসেছিল। এমন সময় হুজুরের বউ শিশুটির জ্বর এসেছে বলে তার মাকে জানায়। অবস্থা বেগতিক দেখে শিশুটিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে ডাক্তাররা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারাই মূলত পুলিশকে ফোন করে। পুলিশ সোমবার পাশবিক নির্যাতনে অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
শিশুটির মা জানায়, তার মেয়ের ভর্তির সময় এই মাদরাসায় ছাত্রী ছিল ৪০-৪৫ জন। পরবর্তীতে তা কমে ৭ জনে এসেছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে শেষ করে দিয়েছে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।
শিশুটির বাবা বলেন, আমি মূর্খ মানুষ, কোরআন শেখানোর জন্য মাদরাসায় দিয়েছি। কিন্তু এমন সর্বনাশ কেন করল? এমনটি যেন কারোর শত্রুর সঙ্গে না হয়। এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, পুলিশ পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে মাদরাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।